কবিদের বাণী

 "পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত , যাকে তুমি সবচেয়ে বেশী ভালবাস
সেই তোমার দু:খের কারন হবে।"


-সমরেশ মজুমদার


  --------------------------######--------------------------
  যতো দূরে ইচ্ছে হয় যাও।
বিশ্বাসী স্বপ্নের কাছে জেনে নেবো সঠিক ঠিকানা।

- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ


--------------------------######--------------------------

 আড্ডাই একমাএ জায়গা যেখানে মানুষ এক ফোটা সুখ নিংড়ে দিতে পারে "
----------------------------------------------------ম্যাঙ্কিম গোর্কি

বেঁচে আছি এই তো আনন্দ ---মহাদেব সাহা।

বেঁচে আছি এই তো আনন্দ,
এই আনন্দের জন্য আমি
সবকিছু মাথা পেতে নেবো,
যে কোনো দুঃখ, যে কোনো শাস্তি--
শুধু এই ভোরের একটু আলো দ্যাখার জন্য
আমি পথের ভিক্ষুক হতে রাজি।

এই যে গোলাপ ফুলটির দিকে যতোক্ষণ খুশি
তাকিয়ে থাকতে পারি
এই সুখে আমি হাসিমুখে সব দুঃখ
মাথা পেতে নেবো।
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই আনন্দের কাছে
কোনো দুঃখই কিছু নয়
এই নির্বাসন, এই শাস্তি,
এই দ্বীপান্তর;
এই মেঘ, এই ঝুম বৃষ্টি, এই শিশিরের শব্দের জন্য
আমি সহস্র বছরের কারাদন্ড মাথায় নিয়েও
বেঁচে থাকতে চাই।
বেঁচে আছি এই তো আনন্দ, এই আনন্দে সব
আঘাত আমি মাথা পেতে নেবো।

বেহিসেবি ভালবাসা

কতটুকু ভালোবাসা দিলে,
ক তোড়া গোলাপ দিলে,
কতটুকু সময়, কতটা সমুদ্র দিলে,
কটি নির্ঘুম রাত দিলে, কফোঁটা জল দিলে চোখের –
সব যেদিন ভীষণ আবেগে শোনাচ্ছেলে আমাকে,
বোঝাতে চাইছিলে আমাকে খুব ভালোবাসো;

আমি বুঝে নিলাম-
তুমি আমাকে এখন আর একটুও ভালোবাসোনা।
ভালোবাসা ফুরোলেই মানুষ হিসেব কষতে বসে, তুমিও বসেছো।
ভালোবাসা ততদিনই ভালোবাসা
যতদিন এটি অন্ধ থাকে, বধির থাকে

 যতদিন এটি বেহিসেবি থাকে।

চলে যদি যাবি

চলে যদি যাবি দূরে স্বার্থপর, আমাকে কেন জোছনা দেখালি
হবি যাদি নাও ভাসিয়ে দেশান্তর, পাথরের বুকে ফুল কেন ফুটালি
আমারি সীমানায় সেতো তোর ছায়া, সেখানে করে বিচরন দুখের নিবাশ।
ও রাখিস কি খবর তোর আঘাতে জমে গেছে নীল আকাশে জমিনের নীল বেদনা


*****অধরা স্বপ্নগুলো *****


"ছেলেটা কথা দিয়েছিলো বিয়ের পর অফিস থেকে আসার সময় প্রতিদিন মেয়েটার জন্য বেলি ফুলের মালা নিয়ে আসবে ... বেলি ফুল মেয়েটার খুব প্রিয় !!
.
মেয়েটা বলেছিলো, সে আর কখনো চুল ছোট করবে না ... লম্বা চুলে খোপা করবে ... সেই খোপাতে অফিস ফেরত ছেলেটা যখন ফুলের মালা গুঁজে দিবে, মেয়েটা খুব ব্যস্ততার ভান করে রান্না ঘরে যেতে যেতে বলবেঃ "অ্যাই !!
.
ছাড়ো তো ... চুলায় তরকারি পুড়ে যাচ্ছে !!"
.
তরকারির পোড়া গন্ধ আর বেলি ফুলের ঘ্রাণ যখন মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে ঘরটা জুড়ে, ছেলেটা আর মেয়েটা তখন শক্ত করে একজন আরেক জন কে ধরে রাখবে !!
.
মেয়েটা ঠিক করে রেখেছিলো তাদের একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তান হলে তার নাম কি রাখবে ... কাগজে লিখে রেখেছিলো, সপ্তাহের কোন দিন কে মশারি টানাবে আর কে মশারি গুজবে !!
.
বসন্তের কোন এক বিকেলে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বসে শক্ত করে হাতটা ধরে তারা ঠিক করেছিলো, জোছনা রাতে তাদের বিয়ে হবে ... চোখ বুজে ছেলেটা ভাবতোঃ বিয়ের রাতে জানালা দিয়ে চাঁদের আলো যখন মুখে এসে পড়বে, লাল টুকটুকে শাড়িতে মেয়েটাকে তখন পরীর মত লাগবে !!
... ... ...
জোছনা রাতেই মেয়েটার বিয়ে হয়েছিলো ... "৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, নিজের বাড়ি আছে, অমুক ভার্সিটি থেকে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, হ্যান্ডসাম, অমুক কোম্পানির সিইও, হাই ফাই ফ্যামিলি" - নামক কয়েকটা শব্দের সাথে মেয়েটার বিয়ে হয়েছিলো ... বাবা-মা এর পছন্দ !!
.
মেয়েটা এখন বেঁচে আছে ... হয়তো ভালোই আছে ... শুধু তরকারি রান্নার সময় যখন কলিং বেল বেজে ওঠে, নিজের অজান্তেই কেঁপে ওঠে মেয়েটা ... লম্বা চুলে খোপা করার সময় তার হাত কাঁপতে থাকে শুধু ...
রাস্তার পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখলে তার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে কেন জানি ... বেলি ফুল তার সহ্য হয় না এখন ... একদমই সহ্য হয় না!!
.
ছেলেটা এখন কোথায় আছে, কেমন আছে - কেউ জানে না ... হয়তো ভালোই আছে ... শুধু বসন্তের বিকেলে তার বুকের ভেতরটায় খুব যন্ত্রণা হয় ... শুধু জোছনা রাতে তার চোখে অমাবস্যা থাকে ... ঘোর অমাবস্যা থাকে !! "সব তোর ভালোর জন্যই" - কথাটাকে বিশ্বাস করে বাবা-মা এর কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলো মেয়েটা ... সব ভালো সবসময় সহ্য হয় না ... তথাকথিত "ভালো" এর জন্য অসহ্য কষ্ট বুকে পুষে বেঁচে থাকাটা অসম্ভব না ... মানুষ ঠিকই বেঁচে থাকে ... মরে যায় শুধু স্বপ্নগুলো !!"

দূর্বলতা

”নিজের দূর্বলতা কখনও খুব কাছের কাউকেও বলা উচিত না ,
সুয়োগ পেলে সেও দূর্বলতা নিয়ে কষ্ট দিতে ভেবে দেখে না “”
………………………………
ভাবনা

সবকিছুই কেমন শুন্য মনে হয়

একদিন ভালবেসে হারিয়ে যেতে চেয়েছিলাম
একদিন ভুলে যেতে চেয়েছিলাম তুমি ছাড়া পুরো পৃথিবীকে
একদিন বাচতে চেয়েছিলাম নিজের মত করে
আর আজ সবকিছুই কেমন শুন্য মনে হয়
নিষ্ঠুর নিয়তি নাকি নিষ্টুর মন ?????????

.................................ভাবনা 

***** অভিমান******

 তুমি কি মানুষ?
- হু
- তুমি নিজেকে মানুষ ভাবো?
- দুর্ভাগ্য, ভাবতে হয়
- আমার দূরভাগ্য কি জানো?
- হু
- তোমার মত মানুষকে ভালোবাসাটা
আমার বোকামি ছিল
- ভালো
- তোমার ইয়ার্কি লাগছে?
- না, যুক্তি নিয়ে কথা বললাম
- কি যুক্তি
- মানুষ প্রথমবার বোকামি করে,
দ্বিতীয়বার না
তুমি নিশ্চয় দ্বিতীয়বার বোকামিটা করবে
না?
- মানে?
- মানে নেই
বিপাশা এক দৃষ্টিতে পিয়াসের
দিকে তাকিয়ে থাকে
তার ইচ্ছে হচ্ছে পিয়াসের গালে চর
বসাতে
পাবলিক প্লেসে বিয়েফকে চর মারার
বিষয়টা মোটেও স্বাভাবিক দেখাবে না
পিয়াস চুপ করে বসে আছে বিপাশা কি
বলে শোনার
জন্য বিপাশার রাগটা জায়েজ এক সপ্তাহ
পর
কথা হচ্ছে তাদের
এক সপ্তাহ অনেক সময়
বিপাশার জন্য বছর বলা যায়
এই এক সপ্তাহে পিয়াস ব্যস্ত ছিল ব্যস্ত
তা শেষ হয়েছে গতকাল
আজ বিশেষ দিন
বিশেষ দিন গুলোতে প্রিয় জনের সাথে
দেখা করা যায়




আজকের দিনটি একটু বেশি বিশেষ
আজ পিয়াসের চাকরি হয়েছে
চাকরি নিয়ে ব্যাস্ত ছিল শেষ কয়দিন
খুশির খবর বিশেষ দিনটির জন্য
জমা রেখেছিল
- এত দিন কই ছিলে?
- পৃথিবীতে
- পৃথিবীর কোথায়?
- বলা যাচ্ছে না
- আজ কেনো এলে?
- তুমি ডেকেছ
- না ডাকলে আসতে?
- উহু
বিপাশা পিয়াসের থেকে চোখ ফিরিয়ে
অন্য দিকে তাকালো
তার মনে হচ্ছে অপরিচিত
কারো সাথে কথা বলছে তার
পাশে যে বসে আছে সে পিয়াস না এক
সপ্তাহ খুব বেশি সময় না
এই অল্প সময়ে পিয়াস বদলে যাবে ভাবেনি
বিপাশা
আজ তার বিশেষ একটি দিন
অন্য কারো জন্য না হলেও সে ভেবেছিল
পিয়াসের জন্য দিনটি বিশেষ
তার ধারনা ভুল
বিপাশা পিয়াসের সে বিশেষ মানুষটি
হয়ত নেই
পিয়াসের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে
বিপাশার
কাঁদো কাঁদো মুখ দেখে খারাপ লাগছে
তার
এতটা করা উচিত হচ্ছে না না করে থাকার
লোভ
সাম্লাতে পারছে না সে
- বিপাশা?
- হুম
- কাদছ?
- আমি কাঁদছি না
- চোখে পানি ...
- থাকুক
- কান্না শেষ হলে বলো
- আমি কাঁদলে তোমার কি?
- কান্নার সময় খুশির খবর মানায়?
- খুশির খবর? বিয়ে করছ নিশ্চয় .....
- উহু, চাকরি পেলাম
চমকে পিয়াসের দিকে তাকালো বিপাশা
চেহারা যথেষ্ট বিস্ময়ের ছাপ
- হুম
- চাকরি !!!
- হুম্
- এখন বলছ?
- তোমাকেই বললাম কেবল
- আগে বললে হতো না?
- না
চেহারায় মূহুর্তে রাগ সরে গিয়ে চেহারায়
হাসির
রেখা ফুটলো বিপাশার
হঠাৎ এমন খবর শুনবে ভাবেনি
এত দিনে দেখা না করার কারন তাহলে
এটি?
সন্ধা নামছে পার্কে বসে থাকা মানুষ
গুলো বাড়ির পথ ধরেছে
বিপাশার চেহারায় হাসির রেখাটি নেই
কিছুটা অভিমান ভর করেছে তাতে
আজ তার জন্মদিন
এই দিনটিও পিয়াসের জানা নেই !!
হাটতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায় পিয়াস
সঙ্গে করে আনা ব্যাগ থেকে ফুলের মালা
বের করে
বেলী ফুল, বিপাশার বেশ পছন্দের
সন্ধা নেমেছে পুরোপুরি
আকাশে থাকা পূর্নিমা চাঁদ আলো ছড়াতে
শুরু করছে
আকাশে ভাসতে থাকা পূর্ণিমার চাঁদের
দিকে খেয়াল নেই পিয়াসের
তার সামনে পৃথিবীর
সুন্দর চাঁদটি দাড়িয়ে আছে
মাথায় বেলী ফুলের
খোপা, তার সুন্দর্য বাড়িয়েছে দিগুন
বিপাশার চোখে পানি
নিজের উপরই রাগ
লাগছে তার
পিয়াস বদলায় নি
ঠিক আগের মতই আছে
ভালবাসার মানুষ কখনও বদলায় না
পিয়াসের দিকে তাকিয়ে হেসে দেয়
বিপাশা
তার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চেপেছে
পরপর দুটি সারপ্রাইজ
বিশেষ দিনটিকে আরো বিশেষ করা
যায়না